যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কেন উপসাগরের জলসীমাকে হুমকিতে ফেলছে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে স্থল ও আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রও ক্রমেই সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের জলসীমায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনকারী ট্যাংকার চলাচল করে। অনেক জাহাজ আবার হামলার আশঙ্কায় জলপথের আশপাশে অপেক্ষাও করছে।

ফলে কোনো তেলবাহী ট্যাংকারে সফল হামলা হলে সেটি শুধু অগ্নিকাণ্ড বা জাহাজডুবির কারণই হতে পারে না; এর ফলে সমুদ্রে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হুসেইন সামহ আল মাসরুরি আল-জাজিরাকে বলেন, প্রবালপ্রাচীর, ম্যানগ্রোভ বন, সামুদ্রিক ঘাসের অঞ্চল এবং উপকূলীয় পলির মতো সংবেদনশীল পরিবেশে দূষণকারী পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত হাইড্রোকার্বন সরাসরি মাছ, প্রবাল, প্ল্যাঙ্কটনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাছের ডিম ও লার্ভা তেল দূষণের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

শুধু যুদ্ধ নয়, পরিবেশেরও সংকট

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথে বড় ধরনের কোনো হামলা হলে তার প্রভাব সামরিক সংঘাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একটি বড় তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগা বা জাহাজ ডুবে গেলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তেল পানির ওপর একটি আস্তরণ তৈরি করে সূর্যের আলো ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনচক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষ করে প্রবালপ্রাচীর, ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক ঘাসের অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এসব বাস্তুতন্ত্র শুধু সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল নয়; উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা এখন শুধু বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের জন্যই উদ্বেগের কারণ নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত