মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে মিসর-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। বুধবার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে এ আলোচনা হয়।

ফোনালাপে দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি মিসর ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হন।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে চার দেশের আঞ্চলিক পরামর্শক কাঠামো—‘রিজিওনাল ফোর’ (R4)-এর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সমন্বয় চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বরের এক ফোনালাপেও দার ও আবদেলাত্তি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সে সময় তারা ১৮ জুন ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন পুনরায় শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তারা এমন একটি ব্যাপক ও টেকসই সমঝোতার আহ্বান জানান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সহায়তা করবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বৈঠক

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বৈঠক করার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় মিসর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে।

মিসর ও পাকিস্তান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। চার দেশের এই আঞ্চলিক ব্যবস্থায় কায়রো, ইসলামাবাদ, রিয়াদ ও আঙ্কারা একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হলো সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয় এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটে পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় হয়েছে। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন পুনরায় শুরু করার আহ্বানও সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

মিসরের সঙ্গে পাকিস্তানের সমন্বয়ও এই বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ। কায়রো ও ইসলামাবাদ মনে করছে, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাম্প্রতিক আলোচনায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যখন হামলা-পাল্টা হামলা বাড়ছে, তখন মিসর ও পাকিস্তানের এই সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা সংঘাত নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো উদ্যোগের পথ তৈরি করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত