খামিস মুশাইত ও আবহায় হুথি হামলার আশঙ্কা কেটে গেছে: সৌদি আরব

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত ও আবহায় হুথিদের হামলার আশঙ্কা কেটে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর ওই এলাকাগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আবহা, খামিস মুশাইত ও জাজানসহ দক্ষিণ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাতীয় অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনার কথা বলা হয়েছে।

এরপর খামিস মুশাইত ও আবহায় জারি করা বেসামরিক সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই মুহূর্তে আর তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।

সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

সৌদি শহরগুলোতে হুথিদের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরেও লড়াই তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাত সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে।

এরই মধ্যে হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা দখল করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ চলাচল করে। ফলে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হুথিদের হামলা এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের অগ্রযাত্রা একই সময়ে ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন একটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে খামিস মুশাইত ও আবহায় সর্বশেষ জারি করা সতর্কতা প্রত্যাহার হওয়ায় আপাতত ওই দুই শহরে তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি কেটে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইয়েমেনে সংঘাত অব্যাহত থাকা এবং হুথিদের সৌদি ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন