হুথি হামলা ও সৌদি পাইপলাইন বন্ধের প্রভাবে ১০৭ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে। সৌদি আরবের ওপর নতুন করে হুথিদের হামলা, উপসাগরে জাহাজে হামলা এবং ড্রোন হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ০৩:৪০ GMT পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.২১ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.১৭ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১০৩.২২ ডলার হয়েছে।

তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের নতুন হামলার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবর সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে।

এর মধ্যে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই পাইপলাইন সৌদি তেলকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির সুযোগ দেয়। ফলে পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পাইপলাইনের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সঙ্গে সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলা ও উপসাগরীয় জলপথে জাহাজে হামলা যুক্ত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়, জাহাজের বিমা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি আমদানির খরচও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন