সৌদি পাইপলাইন বন্ধ

বৈশ্বিক সরবরাহে ৪ শতাংশ তেল ঘাটতির শঙ্কা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করা না গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনটি দ্রুত সচল করা না গেলে রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের মজুত করা তেলও শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এমনিতেই বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের এই পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ড্রোন হামলার পর পাইপলাইন বন্ধ:
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। হামলায় পাইপলাইনটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ করে কবে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই পাইপলাইন সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে অপরিশোধিত তেল পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরের দিকে নেওয়া হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে পাইপলাইনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

হরমুজ সংকটের মধ্যে নতুন চাপ:
সৌদি পাইপলাইন বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পৌঁছানোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এর সঙ্গে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অচল হয়ে পড়লে বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য আরও নষ্ট হতে পারে। এতে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ ও বাজারসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো- হরমুজ সংকট এবং সৌদি পাইপলাইন অচল হওয়ার ঘটনা একই সময়ে ঘটছে। একটি সংকট যদি সাময়িকভাবে অন্য পথ দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু বিকল্প পথও অচল হয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে।

নজর এখন মেরামতকাজে:
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সৌদি আরব কত দ্রুত পাইপলাইনটি মেরামত করে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে এটি সচল করা সম্ভব হলে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট এড়ানো যেতে পারে। কিন্তু মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

তেল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় সৌদি আরবের রপ্তানি মজুতও দ্রুত কমে যেতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির সংকটের সঙ্গে নতুন করে সৌদি সরবরাহ ঘাটতি যুক্ত হবে। বিশ্বের জ্বালানি বাজারে সৌদি আরবের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাই পাইপলাইনটির পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। সামরিক সংঘাত যতো দীর্ঘ হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলো যতো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে, ততোই বাড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা।

জেএম
আরও পড়ুন