কেশম দ্বীপে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় একটি মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসি'র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ২৯ মিনিটে কেশম দ্বীপের আকাশে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ঘটনাটি রাত ১০টা ৫৯ মিনিটের দিকে ঘটেছে।

ইরানের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে।

তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ড্রোনটি সত্যিই ভূপাতিত হয়েছে কি না এবং সেটি কোথায় ও কীভাবে ধ্বংস হয়েছে—তা ইরানের দাবির ভিত্তিতেই আপাতত জানা যাচ্ছে।

হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এর আগে কেশম দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা IRNA স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণের শব্দ সমুদ্রের দিক থেকে এসেছে।

এ ছাড়া সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন নৌ ড্রোন দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে ইরানের দুটি ছোট নৌযান ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেছে, ইরানি নৌযানগুলো একটি মার্কিন মানববিহীন নৌযান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

MQ-9 কেন গুরুত্বপূর্ণ?

MQ-9 Reaper মূলত দীর্ঘসময় আকাশে অবস্থান করে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি মার্কিন মানববিহীন বিমান।

ইরান এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মার্কিন MQ-9 ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। আগস্টেও আইআরজিসি'র পক্ষ থেকে হরমোজগান প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন MQ-9 ধ্বংসের দাবি করা হয়েছিল।

সর্বশেষ দাবিটি সত্য হলে হরমুজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন কার্যক্রম ও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আরেকটি ঘটনা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ঘটনার স্বাধীন যাচাই এবং মার্কিন প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত দাবিটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যেই সংঘাতের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। ফলে আকাশ ও সমুদ্রপথে এ ধরনের নতুন সামরিক সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত