ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুথিদের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাইজের পশ্চিমে আল-ওয়াজিয়াহ জেলার বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র লড়াই হয়। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের বরাত দিয়ে একটি সামরিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক সূত্রটি জানায়, সংঘর্ষের পাশাপাশি ইয়েমেনি যুদ্ধবিমান হুথিদের যানবাহন ও সমাবেশস্থলে হামলা চালিয়েছে। এর আগে তাইজ ও লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুথিদের সরবরাহ লাইন ও মোতায়েনস্থলেও বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে হুথিদের অবস্থান ও শক্তিবৃদ্ধির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তাইজ বর্তমানে এসব সংঘর্ষের অন্যতম প্রধান ফ্রন্ট হিসেবে রয়েছে।
পশ্চিম তাইজে কেন লড়াই তীব্র
তাইজের পশ্চিমাঞ্চল ও মোখা ঘিরে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও ভৌগোলিক কারণ রয়েছে। অঞ্চলটি লোহিত সাগরের উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদার দিকে অভিযান জোরদার করেছে। এর ফলে তাইজ ও মোখার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহপথ নিয়েও সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। আল-জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিম তাইজে লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো উঁচু ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের নিয়ন্ত্রণ।
সরকারি বাহিনী এর আগে হুথিদের কয়েকটি হামলা প্রতিহত এবং তাদের অবস্থান ও শক্তিবৃদ্ধির ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে।
হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার যে সংখ্যা দিয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হুথিদের পক্ষ থেকেও সর্বশেষ এই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার দাবি করেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া কঠিন।
আবারও সক্রিয় হচ্ছে ইয়েমেনের যুদ্ধফ্রন্ট
ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের স্থলযুদ্ধ অনেকটা কমে গেলেও চলতি বছর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সংঘর্ষ আবার তীব্র হয়েছে। জুলাই থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাইজ ও হোদেইদা এলাকায় সরকারি বাহিনী হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায়।
এর ফলে দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে স্থির থাকা ফ্রন্টলাইনগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাইজ-মোখা করিডর এবং বাব আল-মান্দেবের আশপাশের এলাকা নতুন করে সামরিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের প্রবেশপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় সেখানে সংঘর্ষ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে এ কারণে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে।
অপমানের প্রতিশোধ নিতে তৈরি হয়েছিলো ঢাকার যে রাজপ্রাসাদ
গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ