'এনপিটি' থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা: আজিজি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে ইরানের প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি। তিনি বলেছেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সংসদে একাধিক প্রস্তাবও জমা পড়েছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সব স্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর মধ্যে অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

মেহর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিজি বলেন, এনপিটি থেকে ইরানের প্রত্যাহার এখন আলোচনার টেবিলে থাকা একটি বিকল্প। তার ভাষ্য, এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে ‘প্রত্যাহার পরিকল্পনা’ নামে কয়েকটি আইন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে বহু সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশন এবং পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নবিষয়ক উপদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে আজিজি বলেন, শুধু আইন প্রস্তাব উত্থাপন করলেই এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের সব স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন কাঠামোর মধ্যে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন আজিজি। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটিকে রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করা হয়েছে এবং এর কারিগরি ও বিশেষায়িত দায়িত্ব থেকে তা সরে গেছে। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার সময় যে কারিগরি ও পেশাদার ভূমিকার ওপর সংস্থাটির দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছিল, বর্তমানে তা আর যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না।

আজিজি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর হাতে কোনো হাতিয়ারে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। তার দাবি, সংস্থাটির বিধিবদ্ধ দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গত কয়েক বছরে তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।

ইরানের এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে আজিজির এই বক্তব্যের আগে ১৫ সেপ্টেম্বর দেশটির একদল সংসদ সদস্যও চুক্তিটির সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এনপিটি ইরানের পরমাণু স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিংবা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিশ্রুত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ওই সংসদ সদস্যদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এনপিটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের অঙ্গীকারের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পারস্পরিক ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহে আন্তর্জাতিক কাঠামোগুলো ইরানের ন্যূনতম আইনগত অধিকারও নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন আজিজি। তিনি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে শক্তিশালী ইরানের সঙ্গে নিজেদের সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানান। তার মতে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সমীকরণ, ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক,এসব বিষয় আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন