ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে জোট গঠন করেছে দেশটির প্রধান ৭টি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এই নতুন জোট গঠনের কথা নিশ্চিত করে গোষ্ঠীগুলো।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতেই তারা একছাতার নিচে এসেছে। এই নতুন জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’, যা সংক্ষেপে ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ বা ‘টিকে থাকার জোট’ নামে পরিচিত।
৭টি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে রয়েছে- ২০২৩ সাল থেকে আমহারা অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা ফানো উপদলগুলোর জোট ‘আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্ট’; প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার আগে টানা প্রায় তিন দশক দেশ শাসন করা ‘তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’ (টিপিএলএফ); এবং ২০১৮ সাল থেকে ওরোমিয়া অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া ‘ওরোমো লিবারেশন আর্মি’ (ওএলএ)।
জোটের অন্য চারটি ছোট গোষ্ঠী হলো- ওগাদেন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (ওএনএলএফ), আফার রেভোলিউশনারি ডেমোক্রেটিক ইউনিটি ফ্রন্ট (উগুগুমো), বেনিশানগুল পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট এবং গুমুজ পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট।
ফানো গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, এই জোট গঠনের জন্য বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলছিল।
বিবৃতিতে জোটটি অ্যাবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী শাসন’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনে এবং দাবি করে যে এর ফলে দেশটি বিভাজনের দিকে ঠেলে যাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট চার্টারের অধীনে পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে যুদ্ধ বন্ধ করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং জাতীয় সংলাপ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
ঐতিহাসিকভাবে, বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নানা মতপার্থক্য ও ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তিগ্রায় যুদ্ধে সরকারি বাহিনীর পক্ষে লড়াই করেছিল ফানো গোষ্ঠী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের হাত থেকে আত্মরক্ষা ও টিকে থাকার প্রশ্নে অতীত সংঘাত ভুলে তারা একজোট হতে বাধ্য হয়েছে।
এই জোট গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রায় অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ২০২২ সালে প্রেটোরিয়ায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই টিপিএলএফ ওই শান্তি চুক্তিকে ‘কার্যকরভাবে মৃত’ বলে ঘোষণা করে।
ইথিওপিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই জোট গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
আইসিসির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের তথ্যে বড় গরমিল!
মেসির ফ্রি কিক গোলেও জয় পেল না ইন্টার মায়ামি
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান