প্রেসিডেন্ট মইসি হত্যা: ১৮ আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলো হাইতি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

হাইতির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জন আসামিকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছে। ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর সামরিক ক্যু ও হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৫ বছর পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত করা হলো।

২০২১ সালের জুলাইয়ে রাজধানী পোর্ট-ও-প্রিন্সে নিজের বাসভবনে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মইসি। তদন্তকারীদের দাবি, মূলত কলম্বিয়ার একদল ভাড়াটে সেনা ও পেশাদার ঘাতক এই হামলায় অংশ নিয়েছিল। পরবর্তীতে হাইতিতে চরম গ্যাং সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দেশটির বিচার ব্যবস্থার গতি থমকে যায়। ফলে বিচারের ভার মূলত মার্কিন আদালতের ওপর এসে পড়ে।

ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারে এটি আমাদের পরবর্তী বড় অগ্রগতি। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা অভিযুক্তদের মার্কিন আদালতে নিয়ে আসছি এবং আমাদের কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি।

তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মইসিকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা ও অর্থায়ন পরিচালিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, ডমিনিকান রিপাবলিক এবং হাইতি থেকে। মিয়ামিভিত্তিক একটি সিকিউরিটি ফার্মের বিরুদ্ধে মূলত কলম্বিয়ার সাবেক সেনাদের ভাড়া করার অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা আসামীদের মধ্যে ১৭ জন কলম্বিয়ার সাবেক সেনাসদস্য এবং হাইতির দুর্নীতি দমন বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোসেফ বাদিও রয়েছেন।

এর আগে গত মে মাসে মিয়ামির একটি আদালত এই ষড়যন্ত্রে জড়িত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে কলম্বীয় সেনারা দাবি করে আসছে, তারা একটি অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কথা জানলেও প্রেসিডেন্টকে হত্যার বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

প্রেসিডেন্ট মইসি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তীব্র গ্যাং সহিংসতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ হাইতি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যেই ১,৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ সালের পর দেশে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি।

এএম
আরও পড়ুন