শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের সময় দিলো ইরান

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আলোচনায় বসলেও বড় ধরনের মতপার্থক্য নিয়েই আলোচনা শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হলেও যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। সাত দিনের মধ্যে শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলতে সম্মত আছে ইরান।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির যোগাযোগ হয়। কাতার এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করে। মার্কিন পক্ষ বৈঠকটিকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করলেও তেহরান জানিয়েছে, তাদের মূল শর্তগুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক চাপ কমাতে হবে এবং ইরানি বন্দর ও জাহাজের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। এর পাশাপাশি ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের অবসান নিয়েও তেহরানের শর্ত রয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন ইরানের এমন শর্ত মেনে নেয়নি। ফলে আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে যুদ্ধের অবসান, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি সম্পদ ছাড়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক ঝুঁকিও অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর একজন নাবিক নিহত এবং ২০ জনের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে ওমানের নৌবাহিনী জানিয়েছে। জাহাজটির নাম Cape Dao এবং এটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী। নিহত নাবিক ভারতের নাগরিক ছিলেন। হামলার উৎস তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত