জাতিসংঘে ট্রাম্পের দেখা পাচ্ছেন না নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণকে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে নিউইয়র্ক সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এর মাত্র এক মাস পর, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জন্য জাতিসংঘের মঞ্চটি আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি দর্শকদের সামনে নিজের অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তবে এবার তার নিউইয়র্ক সফর আগের তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দুই নেতার নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সূচিও এমনভাবে নির্ধারিত হয়েছে যে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ সীমিত।

নেতানিয়াহুর জন্য এবারের জাতিসংঘ ভাষণের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর কূটনৈতিক প্রতিবেদক লাজার বর্ম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণকে তিনি ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে নিজের নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা নীতির পক্ষে বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু গাজা, লেবানন ও ইরান এই তিনটি ফ্রন্টে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে নিজের সরকারের নিরাপত্তা নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়টি তার ভাষণে গুরুত্ব পেতে পারে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

রয়টার্সও জানিয়েছে, নেতানিয়াহু জাতিসংঘে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনার জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তবে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে সেই সম্পর্কের প্রকাশ্য চিত্র কিছুটা ভিন্ন।

আল-মনিটর-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি এবং নেতানিয়াহুর সংক্ষিপ্ত নিউইয়র্ক সফরকে কিছু ইসরায়েলি রাজনৈতিক সূত্র ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে এ কথাও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময়সূচি এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা কার্যত নেই। নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়ে দ্রুত ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরান ইস্যুতে। জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। একই সময়ে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের জন্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু। ফলে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও রয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

ইসরায়েলের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অবশ্য বলেছেন, ইসরায়েল তার অর্জনগুলো তুলে ধরবে এবং দেশটির বিরুদ্ধে যে সমালোচনা চলছে, তার একটি অংশকে তিনি ভুল তথ্য ও পক্ষপাতের ফল হিসেবে দেখছেন। এটি তার ও ইসরায়েলি সরকারের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর এবারের জাতিসংঘ সফর কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গাজা, লেবানন ও ইরান নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন; অন্যদিকে দেশে নির্বাচন সামনে থাকায় তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রোতা থাকবেন ইসরায়েলি ভোটাররা। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া এই সফরের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত