জাতিসংঘে ভাষণের পরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ এএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতিসংঘে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। ভাষণ শেষে তিনি প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি ‘আইজ্যাক অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান।

এরপর একই দিন তিনি ইসরায়েলের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এর আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সফর দীর্ঘ না করার সুপারিশ করেছিলেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে সতর্কতার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

নেতানিয়াহুর এবারের সফর শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তিনি নিউইয়র্কে এসে জাতিসংঘে ভাষণ দেন এবং একই দিন দেশে ফেরার বিমানে ওঠেন। তাঁর কার্যালয়ের প্রকাশিত সূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ ছিল না। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক নির্ধারিত ছিল না।

মামদানির সঙ্গে বিরোধ

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধও আলোচনায় ছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে এককভাবে এমন গ্রেপ্তার করার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই। তবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, সেটি সম্মান করা উচিত।

জাতিসংঘে ভাষণের আগে নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ করে মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ইসরায়েল ও দেশটির সেনাদের বিষয়ে তাঁর ভাষায় ‘সত্য’ তুলে ধরবেন এবং মামদানির সমালোচনারও জবাব দেবেন।

নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভও হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন এবং একাধিক বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে গাজা যুদ্ধ, ইরান-সংক্রান্ত নীতি এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই নেতানিয়াহু জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন।

তবে নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে—এমন খবর থাকলেও নেতানিয়াহুর কার্যালয় সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে নিরাপত্তা উদ্বেগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিরাপত্তা সতর্কতার খবরের ভিত্তিতেই বিষয়টি সামনে এসেছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত