ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন হলে উন্নত ও নতুন সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে অসম যুদ্ধকৌশল, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটির সামরিক প্রস্তুতিতে পরিবর্তন এসেছে।
শেখারচি বলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে।” তাঁর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এখন আরও উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে এবং সম্ভাব্য শত্রুর জন্য এবার কিছু ‘চমক’ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “শত্রুর যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের জবাব আমরা নতুন সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে দেব।”
শেখারচির বক্তব্যে ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ‘অসম যুদ্ধ’ বা asymmetric warfare-এর কথা উঠে এসেছে।
এই কৌশলের মূল ধারণা হলো—অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল সামরিক অস্ত্রের মোকাবিলায় তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল, কিন্তু কার্যকর ও ব্যবহারিক অস্ত্র এবং প্রযুক্তি কাজে লাগানো।
ইরানের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগতির নৌযান এবং অন্যান্য তুলনামূলক কম ব্যয়ের অস্ত্রব্যবস্থাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান নতুন সক্ষমতা তৈরির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে ইরানের দাবি করা নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার প্রকৃত কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শেখারচির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা। তিনি দাবি করেন, এসব অস্ত্র আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও উন্নত হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি উন্নত সক্ষমতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা জানিয়েছিল। সে সময় ইরানি কর্মকর্তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান নতুন প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইরানের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
শেখারচির বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি জানিয়েছিল, নতুন করে ইরানে হামলা হলে তাদের প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লক্ষ্যবস্তু—সবই পরিবর্তিত হতে পারে।
ফলে শেখারচির সর্বশেষ বক্তব্যকে ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘নতুন প্রযুক্তি’ বা সম্ভাব্য ‘চমক’-এর নির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরান এর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এসব সক্ষমতার সঙ্গে আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার ইঙ্গিতই দিয়েছেন শেখারচি।
তবে ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বড় অংশই রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও সামরিক বার্তা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই ইরানের ঘোষিত সক্ষমতা এবং বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখারচির বার্তার মূল বিষয় হলো—তেহরান নতুন কোনো সামরিক সংঘাতকে আগের মতো একই ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখছে না; বরং প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং অসম যুদ্ধকৌশলের সমন্বয়ে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছে।
হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে ‘জুতাপেটা’ করা হবে: ইরান
ট্রাম্পের হরমুজ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে ইরান ‘একটুও অবাক নয়’
চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধার