গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গুলিতে অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের এসব হামলাকে গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো।
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য স্থাপিত হালাওয়া শিবিরে একটি ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হন। চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে, আহতদের আল-শিফা ও আল-সারায়া এলাকার ফিল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গাজা সিটির আল-তুফাহ এলাকায় আল-নাফাক সড়কের একটি বাড়ির ছাদেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের আল-ফাখুরা ক্লিনিকের কাছে একদল মানুষের ওপর হামলায় আরও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এর আগে গাজা সিটির পশ্চিমে আল-নাসর এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসাসূত্র জানায়, নিহতদের মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহত ব্যক্তিকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে শিশুও ছিল। স্থানীয় সূত্র নিহত দুজনের পরিচয় ইজ্জ আল-দীন আল-বেইক ও মুহান্নাদ আবু ফুল হিসেবে জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছেন, আল-বেইক হামাসের উত্তর গাজা ব্রিগেডের একজন কমান্ডার ছিলেন। তবে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হামাসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বে সালাহ আল-দীন সড়কে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি, রাফাহ এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত রনিয়া সা’দা পরে মারা যান।
এদিকে দেইর আল-বালাহর পূর্বদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভবন ধ্বংসের বড় ধরনের অভিযান চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা ও অন্যান্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত ১,৪২২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,৯৯৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ৫,১৪৭টি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় ১,৪২১ জন নিহত হয়েছেন। দুই সরকারি সংস্থার সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও উভয় হিসাবেই যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি অব্যাহত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের
দাম বৃদ্ধির পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা