ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শাশুড়ি তাইয়েবে মাহরুযাদেহ দাবি করেছেন যে, মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তার বাবার দাফনের রাতে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে দেখেছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
‘আখবার মাশহাদ’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মাহরুযাদেহ বলেন, "আমি সেই রাতেই তাকে দেখেছি; আলহামদুলিল্লাহ, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।"
তাইয়েবে মাহরুযাদেহ হলেন গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী এবং মোজতবা খামেনির প্রয়াত স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের মা। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নিহত হন জাহরা হাদ্দাদ-আদেল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো মাহরুযাদেহের এই বক্তব্যকে মোজতবা খামেনির সুস্থতার একটি নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ হিসেবে প্রচার করছে। তবে এই সংবাদের সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক কোনো ছবি বা ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর আলী খামেনিকে ২০২৬ সালের ১০ জুলাই শুক্রবার ভোরে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন অনুষ্ঠানের যেসব সরকারি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল, তার কোথাও মোজতবা খামেনির উপস্থিতি দেখা যায়নি।
ইরানওয়্যার আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, দাফন অনুষ্ঠানে মোজতবা খামেনির তিন ভাইকে তাদের বাবার কফিনের পাশে দেখা গেলেও তিনি সব ধরনের দৃশ্যমান রেকর্ড থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। জানাজায় তার এই অনুপস্থিতি মূলত তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০২৬ সালের ৮ মার্চ আলী খামেনির মৃত্যুর আট দিন পর অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) মোজতবা খামেনিকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি কখনোই প্রকাশ্যে আসেননি; তার নামে যেসব বক্তব্য বা অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে, তার সবই কেবল লিখিত আকারে প্রকাশিত হচ্ছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে হামলার সময় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তবে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
গত কয়েক মাসে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে তারা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এসব সাক্ষাতের কোনো ছবি এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আনা হয়নি। এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দুটি বৈঠকের কথা জানানো হলেও সেখানে কোনো ছবি বা অডিও রেকর্ড দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর এক সদস্য জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ ‘সুস্থ’ আছেন এবং দেশ পরিচালনায় পুরোপুরি সক্ষম।
সূত্র: ইরানওয়্যার
বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, নিহত বেড়ে ৪০
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন 'পরিপক্ক’: আইআরজিসি