জলবায়ু সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার আদালতের ঐতিহাসিক রায়

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন "সর্বোচ্চ সীমার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায়" একটি প্রধান কয়লা খনির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত।

পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বুধবারের (৭ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্তকে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছানো প্রথম জলবায়ুবিষয়ক মামলা বলে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, এটি একটি "জাতীয় আইনি নজির" স্থাপন করল, যা যেকোনো জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প বিবেচনা করার সময় জলবায়ু ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাধ্য করবে।

হাইকোর্টের পাঁচজন বিচারকের মধ্যে তিনজন রায়ে উল্লেখ করেন যে, নিউ সাউথ ওয়েলসের 'মাউন্ট প্লিজেন্ট' খনির সম্প্রসারণ অবশ্যই স্থগিত করতে হবে। তাদের মতে, পরিকল্পনা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কেবল তখনই সম্মতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় ছিল, যদি সমস্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার শর্ত নিশ্চিত করা হতো—যা এই ক্ষেত্রে করা হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক ওয়েন্ডি ওয়েলস এবং টনি লোনারগান এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তারা অস্ট্রেলিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলের এই খনি সম্প্রসারণ বন্ধে বহু বছর ধরে লড়াই চালিয়ে আসছিলেন।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে ওয়েলস বলেন, "আজ হাইকোর্ট সেটাই বলেছে যা আমরা সবসময় জানতাম। আমরা খনি থেকে কয়লা তুলে বিদেশে পাঠাব, তা জলবায়ু পরিবর্তন ঘটাবে—আর আমরা ভান করব এর পরিণতি আমাদের স্পর্শ করবে না বা আমাদের দায় নেই, তা হতে পারে না।"

খনিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'মাচ এনার্জি' হান্টার ভ্যালির এই উন্মুক্ত কয়লা খনির মেয়াদ ২০৪৮ সাল পর্যন্ত আরও ২০ বছরেরও বেশি বাড়াতে এবং এর বার্ষিক উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করতে চেয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার সালিম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ড্রক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন হলো এই মাচ এনার্জি।

প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি ছিল, বিদেশে রপ্তানি ও জ্বালানো কয়লার সঙ্গে খনির আশপাশের পরিবেশগত প্রভাবের সরাসরি কোনো স্পষ্ট যোগসূত্র টানা যায় না। এর আগে নিউ সাউথ ওয়েলসের 'ইনডিপেনডেন্ট প্ল্যানিং কমিশন' কোম্পানিটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। তবে পরিবেশবাদীরা এর বিরোধিতা করে বলেছিলেন, বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত প্রতি আউন্স গ্রিনহাউস গ্যাস দাবানল, বন্যা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মামলাকারী লোনারগান বলেন, "আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত একমত হয়েছে যে এই জাতীয় সিদ্ধান্তগুলোতে দাবিকৃত ক্ষতির হিসেব রাখা প্রয়োজন। এটি রাতারাতি কয়লা খনি বন্ধ করে দেবে না, তবে জলবায়ু ক্ষতিকে উপেক্ষা করে কয়লা খনির অনুমোদন দেওয়ার দিন শেষ করল।"

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া, যা কয়লা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উভয় বিক্রিতেই শীর্ষ তালিকায় রয়েছে।

আবেদনকারীদের আইনজীবী অনিতা ও'হার্ট এই রায়কে "ঐতিহাসিক" উল্লেখ করে বলেন, "হাইকোর্ট নিশ্চিত করেছে যে কোনো প্রকল্পের নির্গমন থেকে শুরু করে স্থানীয় পরিবেশগত ক্ষতির ধারাবাহিক শৃঙ্খলকে পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করতে পারে না। এই রায় অস্ট্রেলিয়া এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আইনে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।"

মাচ এনার্জি এই ফলাফলে "অসন্তোষ প্রকাশ" করলেও আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলে, "আমরা মাউন্ট প্লিজেন্ট খনির দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সমস্ত সম্ভাব্য বিকল্প সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করব।"

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন