নেপালে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত, এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

নেপালে চীন সীমান্তের ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। মরদেহ না পাওয়ায় পরিবারগুলো মৃত্যু সনদ পেতে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ফলে ক্ষতিপূরণ, সম্পত্তি হস্তান্তর ও উত্তরাধিকারের বিষয়ও আটকে যাচ্ছে।

গত মাসে কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দিরে নিখোঁজ স্বজনদের স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন বেত্রাবতী গ্রামের মদন লাল লাওয়াত। তার ভাই মঙ্গলসহ পাঁচ আত্মীয় স্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন। গ্রামের বাইরে থাকায় বেঁচে যান তিনি। ভাই মঙ্গল বাড়ি বাড়ি সতর্ক করতে গিয়ে প্রাণ হারান বলে শুনেছেন লাওয়াত। তিনি বলেন, কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করব জানি না। পুলিশ মরদেহ খুঁজছে, কিন্তু আমার মনে হয় না কখনো পাবে। তিসুম ঘাল ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে বাড়ি হারিয়ে বেত্রাবতীতে এসেছিলেন। এবার বন্যায় হারিয়েছেন ১৯ স্বজন, যার মধ্যে পাঁচ বোন। এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনিও মরদেহ ছাড়াই শেষকৃত্যের পরিকল্পনা করছেন।

নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ১২ বছর পর মৃত ধরে নেওয়া হয়। দুর্যোগের ক্ষেত্রে আইনে স্পষ্ট বিধান নেই। শেষকৃত্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রুপি এবং প্রথম মৃত্যুতে প্রায় দুই লাখ, পরবর্তীতে এক লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যু সনদ ছাড়া তা পাওয়া যায় না। আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, বর্তমান দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে আইনটি সেকেলে হয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত ১৪০০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ধীরগতির। সরকারের হিসাবে ৭৫৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বেত্রাবতীতে ৩ হাজারের বেশি ভবন নষ্ট হয়েছে। বিদুরের মেয়র রাজন শ্রেষ্ঠ বলেন, পরিবারগুলোকে ১২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সরকার আইনি জটিলতা সমাধানে কাজ করছে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধনে প্রস্তুত।

পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ ৪৮০ কোটি ডলার লাগতে পারে। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ বলেছেন, এতে জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি অর্থ প্রয়োজন। তিনি ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক সহায়তা চেয়েছেন।

জেএম
আরও পড়ুন