নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের কাছাকাছি একটি উচ্চ পার্বত্য বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহত ব্যক্তি ভারতের নাগরিক। নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম বসন্ত কুমার বালারামারামাডু বলে জানিয়েছে *কাঠমান্ডু পোস্ট*। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সোলুখুম্বু জেলার একটি হেলিপোর্টে।

দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা অবশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এনডিটিভি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে হেলিকপ্টার দুটির রোটর বা পাখার অংশে সংঘর্ষ হয়। এরপর উড়োজাহাজ দুটি নিচে বরফাচ্ছন্ন ভূমিতে আছড়ে পড়ে।

সোলুখুম্বু জেলা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীন রাজা বুধাথোকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুর্ঘটনায় একজন বিদেশি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নেপালে পর্যটক, পর্বতারোহী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজেও ছোট হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সেখানে আকাশপথে চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। এ কারণে প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পর্বতারোহী ও পর্যটক দেশটিতে ভিড় করেন।

উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। বাতাসে অণুর ঘনত্ব কম হলে হেলিকপ্টারের রোটর পর্যাপ্ত বাতাস ঠেলে বেশি উত্তোলনক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। একই সঙ্গে ইঞ্জিনে দহন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহও কমে যায়। ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও উড়োজাহাজের শক্তি হ্রাস পায়।

এর কয়েক দিন আগেই ভারতের উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ছয়জনের সবাই নিহত হন। বদ্রীনাথও একটি উচ্চ পার্বত্য এলাকা, যেখানে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় উড়োজাহাজ চলাচল চ্যালেঞ্জিং।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত