কাস্পিয়ান সাগর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রস্তাব পেজেশকিয়ানের

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কাস্পিয়ান সাগরের পানির স্তর ক্রমাগত কমে যাওয়া ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে কাস্পিয়ান সাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর নেতাদের বিশেষ পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় কোনো একক দেশের পক্ষে একা কাস্পিয়ান সাগরকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ জন্য উপকূলবর্তী দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান কনভেনশনের কাঠামোর মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক কর্মসূচিটি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত। কাস্পিয়ান সাগর নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় উপকূলবর্তী দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের উপপ্রধানদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান তিনি।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বে একাধিক সংকট, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুদ্ধ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অভাবের মধ্যে পরিবেশগত সহযোগিতা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সেতু হতে পারে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা অঞ্চলের বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের শিকার হতে দেওয়া যাবে না পরিবেশকে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে নিজেদের বৈজ্ঞানিক, কারিগরি, আর্থিক ও মানবসম্পদ কাজে লাগিয়ে কাস্পিয়ান সাগরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে উপকূলবর্তী দেশগুলোকেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বৈধ স্বার্থের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কাস্পিয়ান সাগর রক্ষায় তেহরান কনভেনশনের ভূমিকা

পেজেশকিয়ান ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত কাস্পিয়ান সাগরের সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক কাঠামোগত চুক্তি, যা তেহরান কনভেনশন নামে পরিচিত, তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কাস্পিয়ান সাগরের পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আঞ্চলিক ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, বিশ্বের মূল্যবান প্রাকৃতিক ঐতিহ্যগুলোর একটি রক্ষায় উপকূলবর্তী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। পানির স্তর কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু ও পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তেল ও শিল্পবর্জ্যের দূষণ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের মতো গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান হুমকিগুলো উপেক্ষা করা যাবে না।

ইরানি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগর একটি আন্তসংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র। এর কোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পুরো জলভাগের ওপর পড়ে। তাই এই সংকট মোকাবিলায় উপকূলবর্তী দেশগুলোর অভিন্ন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের উদ্দেশে পেজেশকিয়ান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে অভিন্ন সংকটের মুখে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সেটিকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছিল। তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত কূটনীতির প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন দেশের সফল সহযোগিতার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে কাস্পিয়ান সাগর। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন