বোমা ইসরায়েলের কাছে, অথচ পরিদর্শন ইরানে: মোহাম্মদ ইসলামি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ এএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমালোচনা করেছেন দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহায়তা এবং সব দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা।

শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ইসলামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাবে আইএইএ ইরানের প্রতি তার দায়িত্বের পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্নে দ্বৈতনীতি আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করেছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামি বলেন, ‘বোমা রয়েছে ইসরায়েলের কাছে, অথচ পরিদর্শকেরা রয়েছেন ইরানে।’ তাঁর মতে, এই বক্তব্য পারমাণবিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির অসংগতিগুলো সামনে এনেছে।

ইসলামি আরও অভিযোগ করেন, দ্বৈতনীতি ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা ও লঙ্ঘনের প্রবণতা বেড়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো প্রসঙ্গে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি ও অতিরিক্ত দাবির কারণে এই কাঠামো অনেকাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা থেকে সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পছন্দের একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

ইসলামি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার সব দেশের রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও আইএইএর বিধিবিধান অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে উৎসাহ দেওয়া, সহযোগিতা করা এবং সহায়তা প্রদান সংস্থাটির দায়িত্ব।

তবে তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে আইএইএ ইরানের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালন করেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মধ্যে দেশটির পারমাণবিক অগ্রগতি ধীর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি অনুসরণ করেছে সংস্থাটি।

ইসলামির দাবি, সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান আইএইএর বিধিবিধান মেনে চলেছে। একই সঙ্গে দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বের অগ্রণী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

তবে ইসলামির বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইএইএ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

এমএজেড
আরও পড়ুন