গাজায় বাসিন্দাদের সরানোর আগেই ভারী বোমা হামলার নির্দেশ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

গাজায় বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এবং বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আগাম সতর্কতা না দিয়েই হামলা চালানোর নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের চার সামরিক গোয়েন্দা সদস্য। তাঁদের জবানবন্দিতে গাজায় হামলার ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বিবেচনার নীতিমালা শিথিল করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট মনিটর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় সামরিক অভিযান চলাকালে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে লক্ষ্য করে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে চালানো এক হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও এতে দাবি করা হয়।

অন্য এক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য নিহত হলেও ওই কমান্ডার বেঁচে যান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ড্রোন পরিচালনাকারী সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি হামলায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই ড্রোন হামলার অনুমতি দেওয়া হতো। সেনাদের নিরাপত্তার যুক্তিতে গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকিকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান এ ধরনের হামলার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাকচালককে হত্যার উদ্দেশ্যে শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

গাজায় সামরিক অভিযানের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলার শুনানি চলছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত