নির্বাচনের আগে সীমান্তে সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সব ফ্রন্টে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। বুধবার অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরে গিয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে দেশটির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামির বলেন, সব ফ্রন্টে সতর্কবার্তার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বর্তমান সময়ের সংবেদনশীলতার কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আকস্মিক হামলা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক বাহিনীর সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা যেকোনো পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালানোর জন্য বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে আকস্মিক হামলার তৃতীয় বার্ষিকী সম্প্রতি পালন করেছে দেশটি। ওই হামলায় হামাসের যোদ্ধারা পিকআপ ও প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে ইসরায়েলে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি সংগীত উৎসবস্থলও ছিল।
সেই ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা দেশটির সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছর পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে হামলা অব্যাহত আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় সামরিক তৎপরতা চলতে থাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
লেবানন সীমান্তেও অনিশ্চয়তা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতার পর সহিংসতা কিছুটা কমেছে। ওই সমঝোতার অন্যতম বিষয় হলো হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি থমকে আছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরান থেকেও ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সর্বশেষ ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতাকে সামনে এনেছে। তবে সেনা মোতায়েন বাড়ানোর ঘোষণার অর্থ এই নয় যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত অনিবার্য; পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতি ও সরবরাহ করা প্রতিবেদনের তথ্য
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যেকারণে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ
পুরোনো আঘাতের ব্যথা ফিরে এলে কী করবেন?
৪৫তম বিসিএসে ১৭০২ জনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ