আল-আকসার সুরক্ষায় ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: ইসমাইল কানি

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আন্দোলন এবং আল-আকসা মসজিদ সুরক্ষায় ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি। তিনি বলেছেন, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও বহিরাগত চাপ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রতি তেহরানের সমর্থন বদলাবে না।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বৈরুতভিত্তিক আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনের কাছে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় কানি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে ইরান। আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলাও তেহরানের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কুদস ফোর্সপ্রধান জানান, আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে বিদ্যমান ঝুঁকি সম্পর্কে আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনের পাঠানো চিঠি তিনি পেয়েছেন। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষা এবং এর বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলাকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানান তিনি। কানি বলেন, শত্রুপক্ষের হুমকি মোকাবিলা এবং আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষার বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিবেচনা ও অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। স্থানটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম সংবেদনশীল কেন্দ্রও। ইসমাইল কানি বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে দায়িত্ব হিসেবে দেখে আসছে ইরান। বহিরাগত চাপ, বিপদ, চ্যালেঞ্জ ও হুমকির মুখেও তেহরান এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও সরে আসবে না।

তার ভাষ্য, ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির সংগ্রামে সমর্থন দেওয়ার নীতিতে ইরান অটল রয়েছে। দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন যুদ্ধও এই নীতি পরিবর্তন করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। বার্তায় আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান কানি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক জানানোর জন্য সংগঠনটির প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে সংগঠনটির শোকবার্তার কথা উল্লেখ করেন কুদস ফোর্সপ্রধান।

ইরানের এই বক্তব্যে ফিলিস্তিনের প্রতি দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তবে এটি কুদস ফোর্সপ্রধানের বক্তব্য ও ইরানের সরকারি অবস্থানের বিবরণ; ফিলিস্তিন পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক চিত্র হিসেবে একে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

জেএম
আরও পড়ুন