৪ মুসলিমপ্রধান দেশের ‘বদর’ চুক্তি সই, লক্ষ্য কী?

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে সই করেছে তুরস্ক, কাতার, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামরিক উৎপাদন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে চার দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এই চুক্তিতে সই করেন। একই দিন এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানায় তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জুহারি এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।

অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন।

সামরিক সহযোগিতায় কী গুরুত্ব পাচ্ছে

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘বদর’ শব্দের অর্থ ‘পূর্ণিমার চাঁদ’। সমঝোতা স্মারকটির মূল লক্ষ্য সামরিক উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং সামরিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।

আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের উন্নয়নেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চুক্তির আওতায় চার দেশের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পাশাপাশি তাদের মিত্র ও বন্ধুদেশগুলোর চাহিদা পূরণে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য

এই সমঝোতা স্মারক শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চার দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতাকে একত্র করা গেলে শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়বে এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা শিল্পে সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বহুপক্ষীয় অংশীদারত্ব জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও সহযোগিতাটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্দিষ্ট কী কী সামরিক প্রকল্প নেওয়া হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা যৌথ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী এসব বিষয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত