ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরবে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় বুধবার (২১ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নির্দেশের আওতায় রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং এর অধীন কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর অপ্রয়োজনীয় কর্মীরা রয়েছেন। নতুন ভ্রমণ সতর্কবার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং যাতায়াতে গুরুতর বিঘ্ন ঘটেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর কয়েক মাস ধরে সেখানে সীমিতসংখ্যক কর্মী দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু কূটনীতিক আবারও দায়িত্বে ফিরেছিলেন।
হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১০ অক্টোবর থেকে বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বুধবার সীমিতসংখ্যক সৌদি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ বিমানবন্দরটিতে ওঠানামা করে। এর দুই দিন আগে সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছিল।
তবে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সৌদিয়া ও ফ্লাইনাসের মতো কয়েকটি বিমান সংস্থা বুধবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জারি করা একাধিক সতর্কবার্তায়ও সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়েছিল। দেশটিতে মার্কিন সরকারি কর্মীদের কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বিশেষ অনুমতি নিতে হচ্ছে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। আকাশে ড্রোনটি প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, হুথিরা বুধবার ভোরে সৌদি আরবের দিকে পাঁচটি ড্রোন ছুড়েছিল। জোটের দাবি, পবিত্র নগরী মদিনা এবং পূর্বাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।
তবে এসব হামলার বিষয়ে হুথিদের বক্তব্য এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশটি আপাতত শুধু দেশটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতেও সাময়িকভাবে কর্মীসংখ্যা ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হবে। এসব দূতাবাস আগে থেকেই সীমিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের ওপর হামলার ঘটনা আবার বেড়েছে। বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সতর্কতা এবং কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে সংঘাত আরও বাড়বে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।
ইরানের কুর্দিস্তানে ভারী অস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করলো আইআরজিসি
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যা থামেনি: মার্কিন কংগ্রেসওম্যান