ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবির ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। জরিপের ফল নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বড় ধাক্কার ইঙ্গিত দিলেও স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে উঠে আসেনি কোনো পক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কান ১১ ও চ্যানেল ১৩-এর বুথফেরত জরিপে দুই শিবিরকে প্রায় সমান অবস্থানে দেখা গেছে। চ্যানেল ১২-এর জরিপে আইজেনকটের শিবির সামান্য এগিয়ে ছিল। তবে এগুলো বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক হিসাব, চূড়ান্ত ফল নয়। ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ইসরায়েলের বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ছোট দলগুলোর সমর্থনও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটদানের হার প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং পরবর্তী গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম নির্বাচন। ফলে ভোটের ফলকে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তানীতি, যুদ্ধ পরিচালনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনমতের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেল-আবিবে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজেনকট বলেন- ইসরায়েলের জনগণ নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তার ভাষ্য, যোগ্য কোনো নেতা জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিতেন। অন্যদিকে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে এসব বক্তব্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া; বুথফেরত জরিপের ভিত্তিতে এখনো চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল ঘোষণা করা হয়নি।
সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকট চার বছর আগে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০২৩ সালের হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু আট মাস পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেন। আইজেনকট নিজেকে মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে তার অবস্থান কঠোর। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন এবং হামাসের সামরিক শাখাকে ধ্বংস বা বিলুপ্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সরকার গঠনে আরব দলগুলো হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ
নেতানিয়াহুর জোট ও আইজেনকটের শিবিরের বাইরে থাকা আরব দলগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা আইজেনকট কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার সরকার গঠনের পথ জটিল হতে পারে।
নেতানিয়াহুর জোটের মধ্যে উগ্র ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৩ হতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন দল রয়েছে। ইসরায়েলের আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের সমর্থকদের মধ্যে বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জোটটির প্রার্থীরা আশা করছেন, আরব নাগরিকদের বেশি ভোটদানের ফলে তারা নেতানিয়াহুর জোটকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে?
প্রায় তিন দশকের মধ্যে ১৯ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু অতীতেও একাধিক রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে ক্ষমতায় ফিরেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা এবারের নির্বাচনে তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল। নেতানিয়াহু দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল ও বিশ্বকে আরও নিরাপদ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইয়োহানান প্লেসনার বুথফেরত জরিপকে নেতানিয়াহুর জোটের জন্য বড় পরাজয়ের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার সতর্কবার্তা, আইজেনকটও এখনো স্পষ্ট বিজয়ী নন এবং ভোট গণনার সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
জরিপের এই ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটের সামনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন।
নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরেছেন, দাবি বেনেটের
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি তা’ণ্ডবের তথ্য ফাঁস!
রুবিওকে কিউবায় নামিয়ে দেব, ১৫ মিনিটেই পরিস্থিতি সামলাবেন: ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: রয়টার্স
৭০ বছর পর ইস্তাম্বুলের মানচিত্রে ফিরছে অটোমান মসজিদ