আফগানিস্তানে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও বাড়ছে আফিম চাষ। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় দেশটিতে আফিম উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কৃষকেরা ফসলের খেতের আড়ালে গোপনে পোস্ত চাষসহ নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। চলতি বছর তা ৩৩০ শতাংশ বেড়ে ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি হয়েছে। একই সময়ে আফিমের আনুমানিক উৎপাদন প্রায় ৩০০ টন থেকে বেড়ে দেড় হাজার টনের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি। তবে উৎপাদন বাড়লেও তা নিষেধাজ্ঞার আগের পর্যায়ের তুলনায় অনেক কম। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে আফগানিস্তানে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আফিমের জন্য পপি চাষ হতো।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আফিমের বিশ্বের বৃহত্তম উৎস ছিল আফগানিস্তান। নিষেধাজ্ঞার আগে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা মোট আফিমের প্রায় ৮০ শতাংশই আসত দেশটি থেকে। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে পপি চাষসহ সব ধরনের মাদক উৎপাদন নিষিদ্ধ করে গোষ্ঠীটি।
তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি বছর তারা ২২ হাজার হেক্টর জমির পপি চাষ ধ্বংস করেছে। তবে ইউএনওডিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে অনেক কৃষক চাষাবাদের কৌশল বদলে ফেলেছেন। আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে চলতি বছর ১৬টিতে আফিমের জন্য পোস্ত চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা পাঁচটি বেশি।
জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চার হেক্টর পোস্তখেতের প্রায় তিন হেক্টরই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ফলে অঞ্চলটি এখন আফগানিস্তানের প্রধান আফিম উৎপাদন এলাকায় পরিণত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পোস্ত চাষ হতো। এদিকে আফিমের দাম গত বছরের প্রতি কেজি ৫৭০ ডলার থেকে কমে ৫০০ ডলারে নেমেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আগের প্রতি কেজি ১০০ ডলারেরও কম দামের তুলনায় বর্তমান মূল্য অনেক বেশি।
ইউএনওডিসির মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আফিমের দামের বড় ব্যবধান উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাদক পাচারে উৎসাহ জোগাতে পারে। ইউএনওডিসির জরিপে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে আঞ্চলিক মাদক পাচারকারীরা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আগে থেকে মজুত করা আফিমের ওপর নির্ভর করে আসছিলেন।
'ইরান-তুরস্ক যোগাযোগ বাড়লে আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে'
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইরান: নাঈম কাসেম
ইরানকে উন্নতির শিখরে নিতে তরুণদের প্রতি মোজতবা খামেনির আহ্বান