লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইরান: নাঈম কাসেম

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ এবং দেশটির দখল করা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে ইরান অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম। ইরানের এই অবস্থানকে বড় ধরনের ত্যাগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, লেবাননের এই সশস্ত্র আন্দোলন ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করে।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-আহেদের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে কাসেম এসব কথা বলেন। তার মতে, গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, কারণ এর ফলে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা কমেছে।

কাসেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সমর্থনে ইসরায়েলের দখলদারত্বের প্রতিক্রিয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিরোধ আন্দোলনের উত্থান হয়েছে। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হিজবুল্লাহ দখল করা ভূখণ্ড মুক্ত করা এবং জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হিজবুল্লাহপ্রধানের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল যে যুদ্ধগুলো চালিয়েছে, সেগুলো সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনার অংশ। তথাকথিত বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া পক্ষগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করেও দেশটির আগ্রাসন বন্ধ করা যায়নি; বরং এসব চুক্তি দখলদারত্বকে আরও সংহত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

কাসেম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে দখলদারত্ব বজায় রাখা কিংবা ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে গাজা, পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনের অন্যান্য এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক অপরাধ সংঘটনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লেবাননের ভূখণ্ড সম্পূর্ণ মুক্ত করার একমাত্র পথ হিসেবে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান জানান হিজবুল্লাহপ্রধান। এ ক্ষেত্রে মূল্য দিতে হলেও প্রতিরোধ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত কাঠামোগত চুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছেন কাসেম। তার দাবি, এ ধরনের চুক্তি লেবাননের সংবিধান, তায়েফ চুক্তি, জাতীয় আইন, প্রেসিডেন্টের শপথ এবং সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসরায়েলের নির্বাচন প্রসঙ্গে কাসেম বলেন, দেশটির সরকারে কে থাকল, তা নিয়ে হিজবুল্লাহর উদ্বেগ নেই। তাদের মূল দাবি, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে চলে যেতে হবে। পাশাপাশি লেবানন সরকারের বিভিন্ন অংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে লেবাননের জনগণের ঐক্যের প্রশংসা করে কাসেম বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠনে হিজবুল্লাহর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন