ইয়েমেনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ হুথিদের বিরুদ্ধে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

তাইজে গোলাবর্ষণে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের; শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ও অচেতন হওয়ার খবর, স্বাধীন তদন্ত চায় ইয়েমেন সরকার।

ইয়েমেনের অবরুদ্ধ তাইজ শহরে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থযুক্ত গোলা ও রকেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে ব্যবহৃত পদার্থের প্রকৃতি কিংবা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাইজ গভর্নরেটের মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহরের একাধিক রণাঙ্গন থেকে হুথিদের বিষাক্ত গ্যাস ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থযুক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ আল-আকুরদ ও কাহলান এলাকায় এ ধরনের গোলাবর্ষণের খবর এসেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলার পর বেসামরিক নাগরিক এবং পপুলার রেজিস্ট্যান্সের কয়েকজন সদস্য গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। কেউ কেউ অচেতনও হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে গোলাবর্ষণে ব্যবহৃত গোলা ও রকেটে কী ধরনের পদার্থ ছিল, তা শনাক্ত করতে জরুরি কারিগরি তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার তদন্ত দাবি

তাইজ কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, চিকিৎসা নথি পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা এবং নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

ইয়েমেনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা নোমান অভিযোগ করেছেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বিপর্যস্ত তাইজ শহরের দিকে অগ্রযাত্রা জোরদার করতে সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, শহরটির অবরোধ প্রত্যাহার এবং অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত দল মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও ইয়েমেন সরকার।

নোমান বলেন, ‘আমি এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না।’ তাঁর ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড শহরটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য হুথিদের মরিয়া চেষ্টার ইঙ্গিত।

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি ঘটনাটিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জাতিসংঘ এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা—ওপিসিডব্লিউর (OPCW) তদন্ত দাবি করেছেন।

অবরোধে খাদ্যসংকটে ৮ লাখের বেশি মানুষ

রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি তাইজে দীর্ঘদিনের অবরোধ ও নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।

জাতিসংঘ গত সপ্তাহে সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রধান সড়কগুলোতে সংঘাতের কারণে তাইজের ৮ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যসহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

সড়ক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলো সচল রাখতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকটও বাড়ছে।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার ইয়েমেনি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের গুরুত্ব

রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন অনুযায়ী বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের প্রশ্ন তৈরি করবে।

তবে শ্বাসকষ্ট বা অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনা একাই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ নয়। ব্যবহৃত পদার্থের নমুনা, চিকিৎসা প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাইজ কর্তৃপক্ষ হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও আবাসিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমইউ
আরও পড়ুন