যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো জাহাজে আঘাত হানলে তেহরান আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত করবে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেবি বলেন, ‘সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুর সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ চলছে। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধের সময় তারা আমাদের কোনো জাহাজে আঘাত হানতে পারে। কিন্তু আমরা আরও কঠোরভাবে আঘাত করব।’

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘোষিত ‘আয়রন গেট’ কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। ইরানের স্থলসীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্য সরবরাহের পথ বাধাগ্রস্ত করার মার্কিন উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কোনো পদ্ধতিতেই তা সম্ভব হবে না।

স্থলপথে নজরদারিতে মার্কিন টাস্কফোর্স

ইরানের স্থলপথে পণ্য ও অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত করার উপায় খুঁজতে ২০ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পথে অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী ইরানে প্রবেশ করে। ‘আয়রন গেট’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগ ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত দিয়ে ইরানের সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি চাপ

দুই দেশের আট মাসের যুদ্ধে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে তেহরান। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের স্থল ও সমুদ্রপথে সরবরাহব্যবস্থাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ এবং তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি দুই দেশের চলমান সংঘাতের নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।

জেএম
আরও পড়ুন