যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল স্থাপনা বা কোনো অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওয়াশিংটনের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোতে চারগুণ শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালাবে তেহরান। প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এমনই নজিরবিহীন ও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাঘাব এস্ফাহানি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস্ফাহানি বলেন, ‘যুদ্ধসংক্রান্ত যেকোনো উসকানিতে আমরা দ্রুততম সময়ে প্রতিক্রিয়া জানাব। যদি ইরানের একটি তেলকূপ বা কোনো স্থাপনায় আঘাত হানা হয়, তবে যেসব দেশ আগ্রাসনকারীদের (যুক্তরাষ্ট্র) সহযোগিতা করছে, তাদের ওপর আমরা চতুর্গুণ হামলা চালাব।’
তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের ভিন্ন এক অঙ্ক চর্চা করি। আমাদের হিসেবে ইরানের একটি তেলকূপ মার্কিন মিত্রদের চারটি তেলকূপের সমান।’
ইরানের এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ছে। গত শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের ফলে ইরানের তেল বাণিজ্য পঙ্গু হয়ে গেছে।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরান এখন নগদ অর্থের সংকটে ধুঁকছে। প্রতিদিন তাদের ৫০ কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা বেতন পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছে।’
ট্রাম্পের এই বার্তার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইরানের পক্ষ থেকে আরব মিত্রদের ওপর হামলার এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হলো।
ইরানের এই হুমকি মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোর জন্য একটি সরাসরি বার্তা। তেহরান বোঝাতে চাইছে যে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করলে তার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র: এএফপি ও এনডিটিভি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ‘বাংকারবিধ্বংসী’ বোমা নিষ্ক্রিয় করলো ইরান
লেবাননে অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনা নিহত
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে 'নতুন প্রস্তাব' দিলো ইরান