বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ঙ্কারী জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত ও আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠেছে দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল। রিখটার স্কেলে ৪.৯ মাত্রার নতুন এই ভূকম্পনটি গত শুক্রবার অনুভূত হয়, যা সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইএমএসসি’ (EMSC) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, শুক্রবারের এই নতুন ভূকম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকাই (Maracay) শহর থেকে ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মারাকাই এবং রাজধানী কারাকাস— উভয় এলাকা থেকেই এই নতুন কম্পনটি বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই নতুন কম্পনে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি গত বুধবার আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কায় এখনো বিপর্যস্ত। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু এবং ৩,৩৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন আটকা পড়ে আছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ভেনেজুয়েলা সরকারের হিসাব মতে নিখোঁজের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন ভূত্বাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান যতই এগোবে, প্রাণহানির সংখ্যা ততই বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে শুক্রবার দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো ঘোষণা করেছেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ‘লা গুয়াইরা’ (La Guaira) রাজ্যের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হবে।

সরকারি উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা না করে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকাদের খুঁজছেন। এমনকি অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।

লা গুয়াইরার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার প্যালাসিওস আকুলতা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে ও সামাজিক সহযোগিতায় এ পর্যন্ত অনেক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমার ছয় বছরের ছেলে এবং আরও পাঁচজন আত্মীয় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ভারী কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য আমাদের জরুরি ভিত্তিতে ক্রেন প্রয়োজন, কারণ এখনও বহু মানুষ ভেতরে আটকে আছেন।"

দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য আদান-প্রদান সহজ করতে ভেনেজুয়েলা সরকার একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ ব্লক বা নিষিদ্ধ ছিল। তবে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ এখন সহজেই নিখোঁজ প্রিয়জনদের ছবি ও তথ্য শেয়ার করতে পারছেন। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন