ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নেই

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নেই বলে ভারতের সংসদীয় কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহ ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কমিটির পর্যালোচনায় উঠে আসে যে, হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে দেশটির মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির আলোকে। তবে ভারতের ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা বা কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না এই নীতিতে দিল্লি অটল রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) বিষয়ে ঢাকা থেকে যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে, তা ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ভারত থেকে দেশে ফিরলেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে।

কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত