সৌদির বিপদে নীরব ট্রাম্প! নতুন ভরসা ব্রিটেন?

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

সৌদির আকাশে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় বাড়ছে নিরাপত্তার উদ্বেগ। আর এমন সংকটে সৌদির আকাশ পাহারা দিতে এগিয়ে আসছে ব্রিটেন। মোতায়ন হচ্ছে অত্যাধুনিক টাইফুন যুদ্ধবিমান। কিন্তু যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদির ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সম্পর্ক সেই ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই এখন কেন প্রশ্ন উঠছে? 

* সৌদি যখন নতুন করে হামলার মুখে তখন কেন ব্রিটেনের সামরিক সহায়তা? 
* ট্রাম্প কি সৌদির বিপদে যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছেন না?
* নাকি রিয়াদকে এখন নিজের নিরাপত্তার জন্য নতুন ভর্ষা খুঁজতে হচ্ছে?

ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে রয়াল এয়ারফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস্ট স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিমানগুলো সৌদির শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করবে। সঙ্গে পাঠানো হবে সামরিক উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য এ৪০০ এম বিমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো সৌদির নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন ব্রিটেনকে এত বড় ভূমিকা নিতে হচ্ছে কেন?

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য, দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আর ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ হামলার ঝুঁকি এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও আক্রান্ত হচ্ছে। সৌদির নিরাপত্তার জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি।

চলতি বছরের শুরুতে ইরানের হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন সৌদির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে কি?

অন্যদিকে ব্রিটেন শুধু যুদ্ধবিমান পাঠিয়েই থামছে না। সৌদির নিজস্ব বিমানগুলো যাতে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক অভিযানে ব্যবহার করা যায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলোর প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব সেই সুযোগও তৈরি করতে পারে। তবে লন্ডন স্পষ্ট করেছে তাদের যুদ্ধবিমান সরাসরি আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠানো হচ্ছে না।

লক্ষ্য আপাতত সৌদির আকাশরক্ষা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইয়েমেনে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। গুরুত্বপূর্ণ বাবা মানদেব প্রণালীকে ঘিরেও রয়েছে কৌশলগত উত্তেজনা। আর এই সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে। সৌদির আকাশে এবার ব্রিটেনের পাহারা।

দেশটির নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা জিরো। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সৌদির বিপদে কি ট্রাম্প এক পর্যায়ে যুবরাজের পাশে দাঁড়াবেন? ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান কি ইরানের হামলা সামলাতে রিয়াদকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে? নাকি সৌদিকে শেষ পর্যন্ত নিজের নিরাপত্তার জন্য আরো নতুন মিত্রের উপর নির্ভর করতে হবে? এই সংকটে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপই হয়তো স্পষ্ট করবে সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্ক আসলে কতটা শক্তিশালী।

এএইচএ
আরও পড়ুন