চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্কে ইস্তাম্বুলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরান প্রস্তুত। উত্তেজনা নিরসনের একমাত্র পথ হলো কূটনীতি। তবে যেকোনো আলোচনা অবশ্যই ‘ন্যায় ও আইনের’ ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
চাপ বাড়লেও ইরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ত্যাগ করবে না উল্লেখ করে আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, ‘আমরা কখনোই কূটনীতি থেকে সরে যাব না। সংঘাতের বদলে সংলাপই ইরানের পছন্দের পথ’।
বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থে ইসলামী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাইরের অবৈধ হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে ইসরায়েলি সরকারের ষড়যন্ত্র এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’
প্রসঙ্গত, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময়ে তুরস্ক সফর করছেন যখন তেহরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা তুঙ্গে। তবে আঞ্চলিক নেতাদের বিশ্বাস, উচ্চস্তরের এই বৈঠকের পর তেহরানে যেন হামলা না চালায় তাতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাবে তুরস্ক।
সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্ক ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরোধীতা করে উল্লেখ করে ফিদান বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলের জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে।
ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দিচ্ছে অভিযোগ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ইসরায়েল ইরানের উপর সামরিক আক্রমণ চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে... আমরা আশা করি মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে সাধারণ জ্ঞানের সাথে কাজ করবে এবং এটি ঘটতে দেবে না।’
এদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি এবং এ নিয়ে পরিকল্পনাও রয়েছে। হ্যাঁ, আমাদের বিশাল এবং অত্যন্ত শক্তিশালী রণতরী ইরানে যাচ্ছে। তবে আমাদের যদি সেগুলি ব্যবহার না করতে হয়, তা হলেই ভালো!’
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

