ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরান–এর জ্বালানি মজুতের ট্যাংকগুলোতে লাগা আগুন প্রায় ১০ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রোববার ৮ মার্চ সকালেও এসব স্থাপনায় আগুন জ্বলতে থাকে বলে জানিয়েছে বিবিসি ফার্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকগুলোতে জ্বলতে থাকা আগুন থেকে তৈরি ঘন কালো ধোঁয়ায় তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ ঢেকে গেছে। এতে নগরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অ্যাসিড বৃষ্টি নিয়ে সতর্ক করেছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব রাসায়নিক পদার্থ মেঘের সঙ্গে মিশে গেলে বৃষ্টির পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এবং তাতে অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে পারে। এমন বৃষ্টির সংস্পর্শে এলে ত্বকে রাসায়নিক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্র বা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
এদিকে দূষণের ঝুঁকি বিবেচনায় ইরানের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এবং খোলা জায়গায় যাতায়াত সীমিত রাখাই নিরাপদ।
রেড ক্রিসেন্ট নাগরিকদের জন্য কয়েকটি সতর্কতামূলক নির্দেশনাও দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যদি সম্ভাব্য অ্যাসিড বৃষ্টি ত্বকের সংস্পর্শে আসে, তাহলে আক্রান্ত স্থান কোনোভাবেই ঘষা যাবে না। বরং টানা ঠান্ডা পানির প্রবাহে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এছাড়া ওই বৃষ্টিতে ভিজে গেলে ব্যবহৃত কাপড় দ্রুত বদলে ফেলতে এবং ভেজা কাপড় একটি বন্ধ ব্যাগে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি ফার্সি
ইরানি নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান, নতুন সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানি হামলায় দুই হাজার ইসরায়েলি হাসপাতালে
ইরানে হামলায় ১০ হাজার বেসামরিক ভবন ধ্বংস: রেড ক্রিসেন্ট
