আল-আকসা বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একজোট ৮ মুসলিম দেশ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন ধরে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা এবং পুরনো শহরে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ঘটনায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও ইসলামি দেশ। কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এই অবৈধ ও অযৌক্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদে ইবাদতকারীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। দখলকৃত জেরুজালেম বা এর ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।’

মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, আল-আকসা মসজিদ এলাকাটি ‘একচেটিয়াভাবে’ কেবল মুসলমানদের জন্য। জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জেরুজালেম এনডাউমেন্টস এবং আল-আকসা মসজিদ বিষয়ক বিভাগই এই পবিত্র চত্বর পরিচালনার একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের গেটগুলো খুলে দেওয়ার এবং মুসলিম ইবাদতকারীদের প্রবেশে বাধা না দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই লঙ্ঘন বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানানো হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করতে তারা জেরুজালেমের পুরনো শহরে এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি নাকচ করে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (Wafa) জানিয়েছে, এই নীতি ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের একটি অপকৌশল মাত্র।

সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘ভয়াবহ ঐতিহাসিক নজির’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে আল-আকসা ঘিরে এই সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

DR
আরও পড়ুন