ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহ না পেরোতেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫টি মার্কিন রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকে আরেকটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্তে ৬ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে’ ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানগুলো মাটির সাথে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হয়। যদিও সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ‘কেসি-১৩৫’ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্তে এর ভেতরে থাকা ৬ জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় নয় বরং যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে। তবে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারাই মার্কিন বিমানটিকে গুলি করে নামিয়েছে।
পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা। গতকালের এই বিমান দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যুদ্ধের ময়দানে যেকোনো সময় ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর আগে কুয়েত এবং সৌদি আরবে ড্রোন হামলায় ৭ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ জন নৌ-সেনা আহত হন।
‘যুক্তরাষ্ট্রের 'নো কোয়ার্টার' হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’
