মার্কিন বিমানবন্দরে সশস্ত্র এজেন্ট মোতায়েন

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক অচলাবস্থার কারণে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবার বিমানবন্দরে সশস্ত্র ‘আইসিই’ এজেন্ট পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে নিরাপত্তা কর্মীদের ইউনিয়ন ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কোনো বাজেট পাচ্ছে না। কংগ্রেসের সাথে বিরোধের জেরে তৈরি হওয়া এই আংশিক অচলাবস্থার কারণে বিমানবন্দরের ‘টিএসএ’ এজেন্টরা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। ফলে ইতোমধ্যে ৪০০-এর বেশি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন এবং অনেকে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হচ্ছেন না। এতে আটলান্টা বা জর্জিয়ার মতো বড় বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আগামী সোমবার থেকে আমাদের দেশপ্রেমিক আইসিই এজেন্টরা বিমানবন্দরে টিএসএ এজেন্টদের সহায়তা করতে যাবে। তারা এমন নিরাপত্তা দেবে যা কেউ আগে দেখেনি।’

তবে হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোমান সিএনএন-কে জানিয়েছেন, আইসিই এজেন্টরা সরাসরি যাত্রীদের তল্লাশি করবেন না। তারা বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বাহির পথগুলো পাহারা দেবেন, যাতে প্রশিক্ষিত টিএসএ এজেন্টরা তল্লাশির কাজে বেশি সময় দিতে পারেন এবং দীর্ঘ সারি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

টিএসএ কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন ‘এএফজিই’ এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। সংগঠনের সভাপতি এভারেট কেলি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা বেতন ছাড়াই দেশের সেবা করছেন। তাদের প্রাপ্য বেতন দেওয়া উচিত, অদক্ষ ও সশস্ত্র এজেন্ট দিয়ে তাদের প্রতিস্থাপন করা উচিত নয়।’

হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাদের এই কাজের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।’

মিনিয়াপলিসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় আইসিই-র সংস্কার দাবি করছে ডেমোক্র্যাটরা। তারা এজেন্টদের মাস্ক পরা নিষিদ্ধ করা এবং পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার মতো শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাজেটে, যা নিয়ে রিপাবলিকানদের সাথে সমঝোতা হচ্ছে না। গত শুক্রবারও এই সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে আটকে যায়।

NB/
আরও পড়ুন