উপসাগরীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ইরানের

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত (এপি) সোমবার ইরান এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার হুমকি কার্যকর করেন, তবে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। তেহরানের এই হুমকি পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মরুপ্রধান এই দেশগুলোতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাথেই লোনা পানি মিষ্টি করার ‘ডেসালিনেশন’ (Desalination) প্ল্যান্টগুলো যুক্ত থাকে, যা পানীয় জলের প্রধান উৎস।

এই হুমকির পরপরই ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ' সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহান্তে ইরান ইসরায়েলের দিমোনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। যদিও সেই হামলায় দিমোনার মূল স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর থেকে তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ (Stranglehold) প্রত্যাহার না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার এই আল্টিমেটাম মঙ্গলবার মধ্যরাতের (জিএমটি) ঠিক আগেই শেষ হচ্ছে। এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে, যার ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “সংকট যদি এই পথে এগোতে থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে মুক্ত বা সুরক্ষিত (Immune) থাকতে পারবে না।” যুদ্ধের এই নতুন মোড় পুরো অঞ্চলের জনজীবন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন