যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ৭৬টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরণের হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
সোমবার (২৩ মার্চ) আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরবের মার্কিন ঘাঁটি আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর এবং কিং সুলতান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে তেহরান। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা এবং গুশ দান এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ‘খায়বার-শেকান’ ও ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে, ইরানের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা ‘৫ দিনের জন্য স্থগিত’ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে কিছু ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং সেটি সফল হলে হামলা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের সেই ‘নমনীয়’ বার্তার মধ্যেই ইরান এই বিশাল পাল্টাহামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই রুটে ইরানের কড়াকড়ি ও হামলার আশঙ্কায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। যদিও ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ বাজারকে কিছুটা শান্ত করেছে, তবে ইরানের আজকের এই ৭৬ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের কাছেই নিরাপত্তা চাইলো মার্কিন মিত্রদেশ
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
ট্রাম্পের দাবি ‘পরমাণু অস্ত্র না বানাতে ইরানের সম্মতি’
