ইরান যুদ্ধে বিশ্বের এবং নিজেদের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং সেই আদেশ পেয়ে গ্রিসের সৌদা উপসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এসে পৌঁছে ছিলো ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড।
কিন্তু জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগের আগুন এই যুদ্ধে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের ভূমিকাকে থামিয়ে দিয়েছে। ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির পথে রওনা হয়েছে ইউএসএস গেরাল্ড। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সংলাপ শুরু হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে। এই সংলাপের চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের তিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেই নির্দেশ মেনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল বিমানবাহী দুই যুদ্ধজাহাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে যত হামলা ও বিমান অভিযান হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে। দুই জাহাজেই যুদ্ধবিমান আছে কয়েক ডজন করে এবং গোলাবারুদের মজুত বিশাল।
তবে গত ১২ মার্চ ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দু’জন সেনা এবং সেনাদের অন্তত ১০০টি বিছানা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়।
ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও গুরুতর সংকট দেখা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে ত্রুটি থাকার কারণে টয়লেট উপচে ওপরে বর্জ্য ওপরে উঠে আসায় জাহাজটির অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রকৌশলী টিম জানিয়েছে, এই ত্রুটি সারাতে হলে জাহাজ ডক-ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ-সাগরে জাহাজটির মেরামত সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি রণতরীবাহী যুদ্ধজাহাজ একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাস সাগরে টহল দিতে পারবে। তারপর সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড কিংবা বাইরের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যেতে হবে নাবিকদের বিশ্রাম এবং জাহাজ মেরামতের জন্য।
ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড সাগরে টহল দিচ্ছে গত ৯ মাস ধরে। এই রণতরীর জোরেই ইরান হামলার আগে ৬ মাস ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে তথাকথিত মাদকবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থানের কারণে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের সেনারাও ক্লান্ত।
তাই সবদিক বিবেচনা করেই জাহাজটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সূত্র জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ফিরে যাচ্ছে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি জাহাজটির মেরামতের কাজ তদারক করবে।
সূত্র: এএফপি
ইরান যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্পের ‘রহস্যময়’ কর্মকাণ্ড
লেবাননের সেতু ও বসতবাড়িতে ইসরায়েলি হামলা
