মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন একদিকে বারুদ আর লাশের স্তূপ জমছে, অন্যদিকে তখন কূটনৈতিক টেবিলে চলছে এক অদ্ভুত ধোঁয়াশা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’।
ইরানি সামরিক সদরদপ্তরের এক মুখপাত্র কঠোর ভাষায় বলেন, ‘একটি স্বঘোষিত বৈশ্বিক পরাশক্তির সাথে আমাদের মতো কেউ কখনোই আপস করবে না।’ এই মন্তব্য ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের সরাসরি বিরোধী, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে তার প্রশাসন ‘সঠিক মানুষের’ সাথে কথা বলছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। যদিও এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার শর্ত রাখা হয়েছে, যার বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এমন কোনো চুক্তিতে ইরানের রাজি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়েছে:
লেবানন: বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন।
ইরান: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার ইরানের ইসফাহান শহরে অবস্থিত একটি ‘আন্ডারওয়াটার রিসার্চ ফেসিলিটি’ বা পানির নিচের গবেষণা কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
পাল্টা হামলা: ইরানও দমে নেই। তারা ইসরায়েল লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরাকেও সংঘাতের জেরে অন্তত সাতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন জানিয়েছে, তারা ‘অ-শত্রু’ দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেবে, যদি তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে। কিন্তু বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজ সারাদিনে মাত্র একটি তেলের ট্যাঙ্কার এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। অর্থাৎ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন কেবল ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের রূপ নিচ্ছে যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার পথ ক্রমেই বন্ধ হয়ে আসছে।

