যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্বেও মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে উত্তেজনা কমেনি। উল্টো লেবাবনে হামলাকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। এই অবস্থায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুই নেতার এই ফোনালাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। অঞ্চলের নিরাপত্তা-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও জবাব দেয়। এর অংশ হিসেবে তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হলো।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, গতকাল বুধবার লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে স্পেন।মাদ্রিদ এই সংঘাতকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এতে জড়িত যেকোনো উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
আলবারেস তার দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের বলেন, গতকাল আমরা দেখেছি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কীভাবে লেবাননে শত শত বোমা ফেলেছে। এর আগে আজই আলবারেস ঘোষণা দেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় স্পেন তেহরানে নিজেদের দূতাবাস আবার চালু করবে।আলবারেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমাদের রাষ্ট্রদূতকে তেহরানে ফিরে যেতে, আবার তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে এবং আমাদের দূতাবাস আবার চালু করতে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সম্ভাব্য সব দিক থেকে, এমনকি ইরানের রাজধানী থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা অংশ নিতে পারি।’
লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যায় উদাসীন অস্ট্রেলিয়া
যুদ্ধবিরতি রক্ষায় আরব আমিরাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
