সৌদি আরবে প্রথমবার যুদ্ধবিমান মোতায়েন করলো পাকিস্তান

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি দল যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজ নিয়ে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই মোতায়েনকে দুই দেশের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (১১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম ও ঘনিষ্ঠ মিত্র দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ)’র অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় যৌথ সামরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই পাকিস্তানি বাহিনীর এই উপস্থিতি।

রিয়াদ আরও জানায়, মোতায়েনকৃত দলের সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিমান ছাড়াও সহায়ক সামরিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে যৌথ প্রশিক্ষণ, সমন্বিত অপারেশন এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির মানোন্নয়নকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত কার্যক্রম।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ)’ স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির অধীনে নির্ধারিত হয়েছে, যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে, যা দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

ইস্টার্ন সেক্টরের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষণও বেড়েছে। বিশেষ করে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের সংবেদনশীল সময়ের সঙ্গে এই পদক্ষেপের সময় মিল থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ছাড়াও সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান, আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠকের আগেই এই সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের যাতায়াত নিরাপদ করতে ‘আয়রন এসকর্ট’ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য নাশকতা বা হামলার ঝুঁকি এড়ানো যায়। সূত্র: সিএনএন

AS/AHA
আরও পড়ুন