এবার পারস্য ও লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথগুলোতে বড় ধরণের অচলাবস্থা তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা কেবল পারস্য উপসাগর নয়, বরং লোহিত সাগর এবং ওমান সাগর দিয়েও সব ধরণের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি এই কড়া বার্তা দেন।

আলী আবদুল্লাহি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা হবে বর্তমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট সংকলন। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের আমদানি কিংবা রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।’

গত সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের বন্দরে যাতায়াত করা জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে মার্কিন বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কেবল ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো। তবে ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইরান-মার্কিন আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ার খবরের পরপরই অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল: ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। আয়ারল্যান্ডে জ্বালানির দাম কমানোর দাবিতে দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইরিশ সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে কর কমানোর বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

ইরান যদি সত্যিই লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগর একসাথে বন্ধ করে দিতে পারে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ জ্বালানি ও পণ্য এই দুই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সূত্র: এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরা।

FJ
আরও পড়ুন