বুলেটেও থামবে না কলম

‘সাংবাদিক আমাল খলিল’ হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল লেবানন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

রণক্ষেত্রের ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধে ভারী বাতাসে এখন লেবাননের সাংবাদিকদের কণ্ঠে শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের সুর। বুধবার (২২ এপ্রিল) ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সাংবাদিক আমাল খলিল। তার সেই রক্তমাখা প্রেস জ্যাকেট আর নীল রঙের হেলমেট এখন কেবল পেশাগত স্মারক নয়, বরং দমে না যাওয়ার এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সিডন শহর থেকে বাইসারিইয়াহ গ্রাম পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল। আমাল খলিলের কফিন যখন লেবাননের পতাকা আর সাদা ফুলে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছিল সমবেত মানুষের স্লোগানে। তার নিথর দেহের পাশে রাখা সেই পরিচিত 'প্রেস' হেলমেটটি যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, সংবাদ সংগ্রহের অদম্য নেশাই তাকে নিয়ে গিয়েছিল মৃত্যুর মুখোমুখি। শোকাতুর জনতা তাদের প্রিয় সাংবাদিকের ছবি উঁচিয়ে ধরে জানান দিচ্ছিল, এই লড়াই কেবল সীমানার নয়, এই লড়াই সত্য প্রকাশের।

আমাল খলিলের সহকর্মী ওমর নাশাবেহ এই শোকাবহ পরিবেশেও ছিলেন অবিচল। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি মনে করে সাংবাদিক হত্যা করে সত্যের কণ্ঠরোধ করা যাবে, তবে তারা বড় ভুল করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মৃত্যুভয় তাদের পথ আগলে দাঁড়াতে পারবে না। সময় প্রমাণ করবে যে, প্রতিটি বুলেটের বিপরীতে জন্ম নেবে আরও হাজারো নির্ভীক কলম।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর আমাল খলিলের মৃত্যুকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, লেবাননে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। সাংবাদিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এভাবে সুনির্দিষ্টভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো স্পষ্টত একটি যুদ্ধাপরাধ।

২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে, মধ্যপ্রাচ্য এখন সাংবাদিকদের জন্য এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এই বছরের শুরু থেকেই একে একে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন সংবাদকর্মী, যাদের মধ্যে চারজনই নিহত হয়েছেন লেবাননে। আমাল খলিলের রক্তে ভেজা এই পথ ধরে তার সহকর্মীরা আজও ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কারণ তারা জানেন, শব্দ আর ছবিই হতে পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সূত্র: সিএনএন

AS
আরও পড়ুন