পরিবহন শ্রমিকদের পাশে ডিএমপির স্বাস্থ্য ক্যাম্প

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন হাজারো পরিবহন শ্রমিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে থাকেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, স্বল্প আয়ের চাপ এবং চিকিৎসার সুযোগের অভাব তাদের জীবনে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিবহন শ্রমিকদের জন্য চালু করেছে ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’। রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে শ্রমিকরা পাচ্ছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ।

শনিবার (১৩ জুন) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এয়ারপোর্ট গোলচত্বর, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস স্ট্যান্ড, কাকরাইল, মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এবং বলধা গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সহযোগিতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।

আনিছুর রহমান বলেন, “পরিবহন শ্রমিকরা সময় ও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে পরিবহন ব্যবস্থাও হবে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছে, তবে ভবিষ্যতে এটি আরও বৃহৎ ও টেকসইভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ চালক ও হেল্পার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসজনিত জটিলতা এবং মাংসপেশির সমস্যায় ভুগে থাকেন। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও কর্মব্যস্ততা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ডিএমপির এই উদ্যোগকে তাই অনেকেই মানবিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে সহস্রাধিক শ্রমিক এই সেবা গ্রহণ করেছেন, যা তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শ্রমিকদের অভিজ্ঞতাও এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। গাবতলীর এক বাস চালক জানান, “আমরা সারাদিন গাড়ি চালাই, ডাক্তার দেখানোর সময় পাই না। এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছি, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”

এই উদ্যোগ শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার পথও তৈরি করছে। ডিএমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই ক্যাম্পগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন