ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগে দেশটির সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও চারটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (১২ মে) অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন।
পেনি ওং তার বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইরান সরকার হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গণ-গ্রেপ্তার চালিয়েছে। তিনি বলেন, আজ যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতাসহ ভয়াবহ সব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
অস্ট্রেলিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা। পেনি ওং-এর মতে, এই গোপন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই ইরান হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির বিস্তার ঘটায়। এই উৎসগুলো বন্ধ করতেই নতুন এই অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ।
অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের ‘ইকোনমিক ফিউরি’ (Economic Fury) বা ‘অর্থনৈতিক তান্ডব’ পরিকল্পনার অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো অর্থের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর অস্ট্রেলিয়ার এই অংশগ্রহণ ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপকে আরও ঘনীভূত করবে। সূত্র: আলজাজিরা
ট্রাম্প-ইরান দ্বন্দ্বে ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম